![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
প্রত্যাহারের আদেশ জারির একদিন পর সোমবার (২২ জুন) রাতে সিলেট ত্যাগ করছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। নতুন জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন। তিনি জানান, সোমবার রাতেই মো. সারওয়ার আলমের সিলেট ত্যাগ করার কথা রয়েছে। তার বিদায়ের পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা সাময়িকভাবে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে ন্যস্ত করা হয়। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, প্রত্যাহারের আদেশের পরদিন সোমবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথার বাইরে গিয়ে প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত পরিবেশে এ গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের তিনটি ডেগ ও একটি দানবাক্স খুলে গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা নগদ অর্থ এবং ৭ আনা স্বর্ণ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন জানান, উদ্ধার হওয়া অর্থ ও স্বর্ণ সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে সম্প্রতি খোলা একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ অর্থের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করে এবং মাজার প্রাঙ্গণে একটি সরকারি দানবাক্স স্থাপন করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মাজারসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও মহলে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। তারা মাজারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ নিয়ে আপত্তি জানান। একই সময়ে জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের ঘটনাও সিলেটজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।